কষ্ট না করলে জীবনে কেষ্ট পাওয়া যায় না, একটা ভালো দিন দেখার জন্য অনেকগুলি খারাপ দিন পার করতে হয় এই কথাটা আমিও সবসময়ই আমার স্টুডেন্টদের বোঝাবার চেষ্টা করি, এই পোস্টটা সম্পূর্ণ পড়লে বাস্তবটা বুঝতে পারবে।
রাজমিস্ত্রির কাজ করা থেকে, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ারের জার্নি, এতটা সহজ ছিল না -কার্তিক রায়,দক্ষিণ দিনাজপুর, গঙ্গারামপুর গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক।
পৃথিবীতে দুই ধরনের মানুষ পাবে, বা বলতে পারো ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া পাবে।
একদল খুব কষ্ট করে অনেক গরিব পরিবার থেকে, কষ্টের সিস্টেম নিজের পড়াশোনা সম্পূর্ণ করে, তারপর একটা কাজ করে পরিবারের পাশে দাঁড়াবার চেষ্টা করে।
আর একশ্রেণীর পড়ুয়ারা খুব সৌভাগ্যবান হয়, আপাত দৃষ্টিতে দেখতে গেলে, তার কারণও আমি উল্লেখ করছি,
পারিবারিক অবস্থা খুব ভালো আর্থিক অবস্থার দিক দিয়ে কোন টানাটানি না থাকলে, সেই সমস্ত স্টুডেন্টরা খুব আরাম করে নামিদামি কলেজে পড়াশোনা করেন নামিদামি মোবাইল ব্যবহার করে এবং খুব আরামেই তাদের জীবন কাটে। একটা কাজ বা চাকরি করলেও চলে, না করলেও চলে আর করতে গেলেও একটু কষ্ট হলে ছেড়েছুড়ে দিয়ে বাড়ি চলে আসা। আর বাড়িতে এসে আরও দশ জনকে ডিমোটিভেট করা এবং সব সময় নেগেটিভ কথাবার্তা বলা।
মূল বিষয় হচ্ছে তাদের কাজ বা চাকরি না করলেও হবে কারণ তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট স্ট্রং বা মজবুত বলতে পারো।
ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ডে অর্থের দিক দিয়ে এতটাই স্ট্রং যে কাজ না করলেও নিজের সকাল না তার পরিবারের লোকজনই মিটিয়ে দেবে।
এরপর যে ছবি এবং আমার সাথে আমার খুব কাছের একজন পড়ুয়ার কনভারসেশনটি তুলে ধরলাম সেটি সকলে মনোযোগ সহকারে দেখবেন,
এখানে কোন এডিট করা হয়নি
টাকা না থাকার জন্য লেবারের কাজ করতে হয়েছে একদিন, হাতে করা পড়ে গিয়েছে, একদিন কষ্টে থাকতে না পেরে আমার সাথে যোগাযোগ করলে আর ছবিটা পাঠাল।
তিজির ভাড়াটুকু দেওয়ার জন্য সব টাকা ছিল না কাছে। কোনক্রমে এক বেলা খেয়ে বহু কষ্ট করে লেবারের কাজ করতে হচ্ছিল পিঘির ভাড়া দেওয়ার জন্য আর পরিবারের পাশে দাঁড়াবার জন্য।
তারপর নিয়ে কাজ করতে করতে একদিন পায়ে আঘাত লাগে, সেই দিনের হোয়াটসঅ্যাপে কনভারসেশন আমার সাথে কার্তিকের।
কার্তিকের সাথে ওর আরো দুজন বন্ধু ছিল উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা, তাদেরও পরিবারের অবস্থা ভালো না থাকার জন্য কার্তিকের সাথেই একসাথে এই লেবারের কাজ করতো।
যখন আমার সাথে কার্তিকের কথা হল আমি ওর এই অবস্থা দেখে খুব খারাপ লাগলো, হ্যাঁ আমার একটা কনসালটেন্সি ফার্ম আছে অবশ্যই আর সেখানে -একটা কনসালটেন্সি সার্ভিস ফি দিতে হয় ঠিকই কিন্তু আমি এতটাও কঠোর বা পাষাণ ব্যক্তি না, সেটা আমায় যারা কাছ থেকে চেনে তারা সকলেই জানে।
আমি একটাই কথা বললাম যে কার্তিক আমাকে তো একবার বলতে পারতিস এত কষ্টে আছিস আমি থাকতে তুই এরকম কাজ করছিস, কৃষ্ণসার কে এতদিনে এই চিনলি।
ওদের বায়োডাটা পাঠাতে বললাম,
কার্তিক আমার খুব কাছের একজন স্টুডেন্ট,খুব খুশিতে আছে এখন ব্যাঙ্গালোরে। সেপ্টেম্বরের ১৯-২০ আর ২৩ তারিখে, সমস্ত কথা বলে ব্যবস্থা করে দিলাম।
৩০ তারিখে নতুন কোম্পানিতে জয়নিং সম্পন্ন করালাম 🤗

জয়েন করার সাথে সাথেই, কার্তিক আমায় কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলিনি। এটাই আমার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি, 
একটা নামকরা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জয়েন করানো হয়েছে।
বর্তমানে স্লাইডার ইলেকট্রিক এ কাজ করছে কার্তিক ও ওর সাথে ওর বাকি দুই বন্ধু, কাজ খুবই হালকা, কাত্ত্বিক খুশিতে আছে।
বাংলার ছেলেমেয়েদের পাশে আমি দাঁড়াতে চাই, আর তার জন্য যতদিন আমি বেঁচে আছি আমি আমার কাজ করতে থাকবো। অনেকেই হয়তো আমাদের কনসালটেন্সি নিয়ে অনেক ধরনের ধারণা পুষে রাখে মনের মধ্যে, অনেক সময় অনেকের খারাপ কথাই নিজের ডিমটিভেট হয়ে যায়, ভাবি এই সবকিছু বন্ধ করে দেবো আর কাউকে কাজ পায়ে দেওয়ার জন্য কোন কিছু করবো না।
ঠিক তখনই মনে পড়ে কার্তিকদের মতো আমার শুভাকাঙ্ক্ষী আমার ভাইয়ের মতো সেই ছেলেমেয়েদের কথা যারা আমার ভরসায় আছে, যাদের কাছে কৃষ্ণ ঘোষ একটা আশার আলো। না আমি নিজের বড়াই করছি না, তুমিও একটা সাধারন মানুষ, শুধু ভগবান আমায় সেই সামর্থ্য টুকু দিয়েছেন, যাতে আমার পরিচয় দিয়ে আমার শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে আমি অন্য মানুষের কিছুটা হলে উপকার করতে পারি। হতে পারে সেটা খুব সামান্য অর্থের বিনিময়ে কিন্তু তবুও সেটা উপকার, ভালো থাকবেন সকলে।
দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর এর প্রত্যন্ত একটি গ্রাম থেকে বহু কষ্ট করে নিজের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লিট করেছিল।
প্রথম পরিচয় হয় তখন আমি বোলপুরের বেসরকারি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষাগতার চাকরি করতাম তখন সেই কলেজেই কার্তিকের সিট পড়েছিল জেক্সপো পরীক্ষার।
খুব মজার বিষয় আমিও গার্ডে ছিলাম আর কার্তিক আমার ভিডিও দেখতো
তখন থেকেই পরিচয় তারপর পড়াশোনা সম্পন্ন করে বন্ধুদের সাথে এসে চাকরিতে যায়, সেই কোম্পানির থেকে আরো ভালো অপশন আমার এখান থেকেই পায় বর্তমান এসে ব্যাঙ্গালোরে আছে খুব ভালোভাবেই কাজ করছে।।
নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে একটা গ্রাম থেকে আজকে এত বড় একটা শহরে গিয়ে এত ভালো পজিশন হোল্ড হোল্ড করে কার্তিক তার পাড়া-প্রতিবেশী সকলকেই অনুপ্রাণিত করছে।
এডুকেয়ারের তরফ থেকে কার্তিকের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই।
সম্পূর্ণ পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই আপনাদের, ভালো লাগলে পোস্টটি হোয়াটসঅ্যাপে পরিচিতদের মধ্যে।
যদি কোন ছেলে কাজ না পাই শিক্ষিত হওয়ার পরও,যোগাযোগ করতে বলবেন আমার সাথে আমি চেষ্টা করব তাদের পাশে দাঁড়াবার 

